Friday , April 26 2019

উত্তাল সমুদ্রে ১৩০০ যাত্রী নিয়ে জাহাজের বিপদসংকেত

কয়েক মিটার উঁচু ঢেউ ও শক্তিশালী বাতাসের কবলে পড়ে নরওয়ের পশ্চিম উপকূলে বিকল হয়ে পড়ে একটি জাহাজ। এ সময় এতে প্রায় ১৩০০ আরোহী ছিলেন।

এমভি ভাইকিং স্কাই নামের ওই জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত পাঠানোর পর তা থেকে লোকজনকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয়েছে ৫টি হেলিকপ্টার ও বেশ কয়েকটি জাহাজ। এ সময় চারদিকে ভয়াবহ এক আতঙ্ক দেখা দেয়।

ঢেউয়ের আঘাতে কলার খোসার মতো দুলতে থাকে জাহাজটি। ইঞ্জিন হয়ে পড়ে বিকল। এতে আরেকটি টাইটানিক পরিস্থিতির আতঙ্ক গ্রাস করে কর্তৃপক্ষকে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

মোরে ওগ রোমসডালে কাউন্টির পুলিশ বলেছে, ঘটনার সময় জাহাজটির ইঞ্জিনে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। প্রচ- উঁচু হয়ে ঢেউ আছড়ে পড়তে থাকে এর গায়ে। তীব্র বাতাস বার বার গতিপথ পাল্টে দিতে থাকে এর। ফলে জাহাজের আরোহীদের মধ্যে আর্তচিৎকার শুরু হয়।

এমন অবস্থায় এমভি ভাইকিং স্কাই থেকে বিপদসংকেত পায় নরওয়ের সমুদ্র উদ্ধার বিষয়ক এজেন্সি। শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। জাহাজটিতে থাকা সবাইকে তীরে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

ওই এজেন্সি বলেছে, এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে ৫টি হেলিকপ্টার ও কয়েকটি জাহাজ। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় শনিবার দিবাগত রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রায় ৩০ জনকে তীরে আনা সম্ভব হয়।

পুলিশ বলেছে, মারাত্মক আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটে নি। ভিজি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার করা ৫ জনকে নেয়া হয়েছে হাসপাতালে। ঘটনাস্থল থেকে নরওয়ের পত্রিকা ডাগব্লাডেটকে একজন বলেছেন, ঘটনার সময় সমুদ্রের ঢেউ কয়েক মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে জাহাজের গায়ে আছড়ে পড়ছিল।

ভিজি পত্রিকাকে পুলিশ বলেছে, সমুদ্রে বাতাসের গতি ছিল ৩৮ নট। আর জাহাজটি তীর থেকে প্রায় ২.৫ নটিক্যাল মাইল বা ৪.৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।

পরে এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাহাজটির একটি ইঞ্জিন নতুন করে চালু করা সম্ভব হয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান চলা অবস্থায় জাহাজটিকে উপকূলের কিছুটা কাছাকাছি আনা সম্ভব হয়। এমভি ভাইকিং স্কাই হলো একটি ভাইকিং ওশিন ক্রুজ জাহাজ, যার যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালে।

সমুদ্রে নৌচলাচল বিষয়ক ওয়েবসাইট মেরিন ট্র্যাফিক দেখাচ্ছে জাহাজটি ট্রোমসো থেকে স্টাভাঙ্গারে যাচ্ছিল। কিন্তু এই দুর্বিপাকে পড়ে মোলডের কাছে ফারস্টাড শহরের কাছাকাছি উপকূলে।

জাহাজটির কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে, এর ধারণ ক্ষমতা ৯৩০ জন। কিন্তু ঘটনার সময় এতে প্রায় ১৩০০ মানুষ ছিলেন। তা ছাড়া জাহাজটি যে এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল তা হুস্তাডভিকা নামে পরিচিত। নরওয়ে উপকূলে সবচেয়ে বিপদজনক এলাকার মধ্যে এটি অন্যতম।

গভীর রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।