Tuesday , December 10 2019

একজন মু ক্তি যো দ্ধার আর্তনাদও কানে পৌঁছাল না: ভিপি নুর

১৯৭১ সালের মহান মু ক্তিযু দ্ধের একজন গেরিলা যো দ্ধা ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের একজন সফল রাজনীতিবিদ ও জননেতা।

টানা এক দশকেরও বেশি সময় অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন তিনি। শুধু মেয়রই নন, মন্ত্রি ত্বও করেছেন খোকা। দুই দুবার মন্ত্রি সভার সদস্য ছিলেন তিনি। সেখানেও সফল বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান।

ঢাকার সাবেক এই নগর পিতা চিকিৎসাধীন অবস্থা য় আজ মারা গেছেন। ক’দিন ধরেই জীবন-মৃ ত্যুর সন্ধি ক্ষণে থাকার পর আজ বেলা ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মা রা যান তিনি।

মু ক্তি যো দ্ধা ও রাজনীতিবিদ সাদেক হোসেন খোকার এই মৃ ত্যু নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

তিনি লিখেছেন, ‘‘স্বাধীনতার ৪৮ বছরের অর্জন! স্বদেশের মাটিতে মৃ ত্যু বর ণের আকুল আকুতি জানিয়েও ৬ মাসে পাসপোর্ট মেলেনি বীর মু ক্তিযো দ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকার মেয়র, বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ সাদেক হোসেন খোকার।

মু ক্তিযু দ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন নিজের জীবনকে বিপন্ন করে দেশকে স্বাধীন করতে মু ক্তি যু দ্ধে ঝাঁ পিয়ে পড়েছিলেন। স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাষ্ট্রব্যবস্থার শাসকদের কানে একজন মু ক্তি যো দ্ধার আর্তনাদও পৌছেনি!

গণতন্ত্রের মুখোসে জনবিরোধী স্বৈ রতন্ত্র আর একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠায় ভিন্নমতের উপর দমন-পীড়ন, গুম, খুন, হা মলা, হয় রানি … এই হচ্ছে ৪৮ বছরের স্বাধীন গ ণতা ন্ত্রি ক বাংলাদেশের চিত্র!”

উল্লেখ্য, মু ক্তি যো দ্ধা সাদেক হোসেন খোকা ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি। বিএনপির বর্তমান কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদে ছিলেন তিনি।

ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে থেকে সপরিবারে নিউইয়র্কে থাকা খোকা ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল তাকে।

সেখানকার চিকিৎসকরা সাদেক হোসেন খোকার শারী রিক অবস্থা পরিবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়ে সব চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। তবে খোকার জীবনের শেষ ইচ্ছানুযায়ী অন্তিম সময়ে তাকে দেশে আনা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি তিনি।

তবে গতকাল রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জানান, ‘নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার পরিবার “ট্রাভেল পারমিট” এর জন্য আবেদন করলে আমাদের মিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি এবং তার স্ত্রীর যেহেতু পাসপোর্ট নেই সেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে অন্য দেশ থেকে নিজের দেশে ফেরার এটাই একমাত্র ব্যবস্থা। আমি আমাদের নিউইয়র্কের কনস্যুলেটে এই সি দ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ‘তিনি এবং তার স্ত্রীর নামে মা মলা আছে এবং গ্রে প্তারি পরো য়ানাও থাকতে পারে (আমি নিশ্চিত নই) কিন্তু মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে কথা বলে যা জেনেছি, তাদের আগমনের পর বিষয়টি মানবিক দৃষ্টি কোণ থেকে দেখা হবে।’

এদিকে সাদেক হোসেন খোকার সবশেষ স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আইনগত বাধা থাকলেও তিনি যেন নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন এ জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল রোববার নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মেমো রিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দেখতে যান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

এ সময় তিনি জানান, সাদেক হোসেন খোকার শারী রিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী মানবিক বিবেচনায় খোকার দেশের ফেরার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। সূএঃসময়ের কণ্ঠস্বর