বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঝাল কোন মরিচে?

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঝাল কোন মরিচে? গিনেস রেকর্ডসের তথ্য বলছে ক্যারোলাইনা রিপারের নাম। এতে এত ঝাল যে খাওয়ার পর তা মাথায় বাজ পড়ারই শামিল। যন্ত্রণায় হাসপাতাল পর্যন্ত দৌড়াতে হতে পারে। মুখে জ্বলন্ত কয়লা রাখার অনুভূতি হতে পারে।

চোখ-মুখ বেয়ে পানি পড়বে। বমি ছাড়াও পরিস্থিতি স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মুখে পড়লেই সোজা যেতে হবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।
অনেকেই নিজেকে বড় ঝালখোর বলে দাবি করেন।

কেউ কেউ রীতিমতো ঝাল খাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। অনেক পেশাদার ঝালখোরও আছেন। কিন্তু সব মরিচ তো আর এক নয়! আমেরিকায় ৩৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ক্যারোলাইনা রিপার খাওয়ার পর এ কথা বেশ ভালোভাবে বুঝেছেন।

নিউইয়র্কের কুপারসটাউনে ব্যাসেট মেডিকেল সেন্টারে তাঁকে ভর্তি করা লেগেছে তাঁকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘থান্ডারক্ল্যাপ’ মাথাব্যথা সমস্যায় ভুগছেন ওই ব্যক্তি।

সবচেয়ে বেশি ঝালমুক্ত মরিচ হিসেবে ক্যারোলাইনা রিপার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে ঠাঁই করে নিয়েছে। এতে স্কভিল স্কেলে ২০ লাখ হিট ইউনিট রয়েছে। এ স্কেলে ক্যাপসিসিন ঘনত্ব মাপা হয়।

গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মরিচ খাওয়ার প্রতিযোগিতায় ক্যারোলাইনা রিপার খাওয়ার দুঃসাহস দেখান পেশাদার ওই প্রতিযোগী। খাওয়ার পর শুরুতে শুষ্ক হেঁচকি ভাব দেখা দেয় তাঁর। তারপর ঘাড়ব্যথা শুরু হতে থাকে। পরে ‘থান্ডারক্ল্যাপ’ মাথাব্যথা সমস্যা দেখা দেয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মাথা ও ঘাড় স্ক্যান করে দেখা যায়, কিছু ধমনি সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তীব্র মাথাব্যথা হচ্ছে। ধমনির সাময়িক সংকুচিত হওয়ার ঘটনাটিকে ‘রিভার্সিবল সেরেব্রাল ভাসোকনসট্রিকশন সিনড্রোম’ বলেন চিকিৎসকেরা।

আমেরিকার ডেট্রয়েটের হেনরি ফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক কুলোথুনগান গুনাসেকারান জানান, ক্যাপসিসিনের প্রতি স্পর্শকাতর মানুষ আছেন। ক্যারোলাইনা রিপার মরিচ বেশ জনপ্রিয়। অনেকে এটা খেয়ে দেখেন। খাওয়ার পরে নিজের জিব কেটে ফেলার মতো বাজে ইচ্ছা পোষণ করেন।

চিকিৎসকেরা বলেন, মরিচ খাওয়া ওই ব্যক্তি সুস্থ আছেন। তবে এ ধরনের মাথাব্যথা সহজে দূর হবে না। কারণ, এ ধরনের মরিচ সাধারণ মরিচের চেয়ে অনেক যন্ত্রণাদায়ক।সূত্র- প্রথম আলো