গোপন তথ্য ফাঁস, সৌদি ভাঙ্গার চেষ্টায় আমিরাতের যুবরাজ!

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন জায়েদ সৌদি আরবকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে একটি ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক নথিতে।

লেবাননের আল-আখবার পত্রিকার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা খবরটি প্রকাশ করেছে।

আল-আখবারের খবরে বলা হয়, বৈরুতে অবস্থানরত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের রাষ্ট্রদূতেরা তাদের নিজ নিজ সরকারের কাছে যে গোপন ব্রিফিং পাঠিয়েছেন তা ফাঁস হয়।

গত ২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বরের নথিতে লেবাননে অবস্থানরত জর্ডানের রাষ্ট্রদূত নাবিল মাসারয়া ও তার কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আবদেল-আল-কেনাইয়ের মধ্যেকার বৈঠকের সিদ্ধান্তও এর মধ্যে রয়েছে।

এতে বলা হয়, জর্ডানের রাষ্ট্রদূত জানান কুয়েতের রাষ্ট্রদূত বলেছেন- ‘আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মাদ বিন জায়েদ কিংডম অব সৌদি আরবকে ভাঙ্গার জন্য কাজ করছেন।’

এরপর ২৮ সেপ্টেম্বরের আরেকটি নথিতে জর্ডানের রাষ্ট্রদূতের সাথে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত হামাদ বিন সাইদ আল-শামসির বৈঠকের তথ্য রয়েছে।

এই নথিতে বলা হয়, জর্ডানের রাষ্ট্রদূত তার সরকারকে জানিয়েছে- ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করে সৌদির কৌশল দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে বিশেষ করে লেবাননে ব্যর্থ হচ্ছে। আরব আমিরাত সৌদির কৌশলে অসন্তুষ্ট’।

সিরিয়া অভিযান ‘আইনসম্মত ও নৈতিক’ দায়িত্ব ছিল: থেরেসা মে
সিরিয়ায় যৌথ বিমান হামলায় যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ নেয়া ‘আইনসম্মত ও নৈতিক’ দায়িত্ব ছিল বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বলেছে। সিরিয়ার নাগরিকদের মানবিক কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে এ হামলা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক বিতর্কে থেরেসা মে এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আসাদ সরকার দুমাতে রাসায়নিক হামলার সাথে জড়িত থাকার পিছনে স্পষ্ট প্রমাণ আছে।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্য সব ধরণের কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানালেও শেষমেস এ বিমান হামলা চালানো ছাড়া অন্য কোন উপায় ছিল না বলে জানান তিনি।

তবে এ অভিযানকে আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মত দেন লেবার নেতা জেরেমি কোরবাইন। তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্টের কাছেই সরকারের দায়বদ্ধ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের খেয়ালে এটি চলবে না।

তবে লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন এমপি এ অভিযানকে সমর্থন দেন।

পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়াই সিরিয়ায় অভিযানে অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধীদলগুলো সরকারের সমালোচনা করলে তিন ঘণ্টারও বেশি এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদিতে নিষিদ্ধ সিনেমা হঠাৎ বৈধ কেন?
৩৫ বছর পর এই প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে সিনেমা হল খুলতে যাচ্ছে আর কিছু দিন পরই। প্রথম ছবি দেখানো হবে ব্ল্যাক প্যান্থার।

কিন্তু যে দেশে সাড়ে তিন দশক সিনেমা নিষিদ্ধ ছিল, সেখানে হঠাৎ কী কারণে সিনেমা আবার ‘বৈধ’ হয়ে গেল?

এর কারণ নিহিত আছে সৌদি সমাজে যে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসা হচ্ছে তার ভেতর।

বিংশ শতাব্দীতে আল সৌদ পরিবারের ক্ষমতার উৎস ছিল দুটি। একটি হচ্ছে তাদের তেল সম্পদ, আর দ্বিতীয়টি হলো রক্ষণশীল ইসলাম ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে একটা অনানুষ্ঠানিক ‘চুক্তি’।

‘কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন লিখছেন ব্রিটিশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথ্যাম হাউসের বিশ্লেষক জেন কিনিনমন্ট।

‘কারণ একবিংশ শতাব্দীতে এসে দেখা যাচ্ছে যে, তেলের অর্থ এখন আর সরকারি ব্যয় মেটানো বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট নয় এবং সৌদি রাজপরিবারের নতুন নেতাদের ওপর ধর্মীয় নেতাদের প্রভাবও কমে গেছে।

সৌদি আরবের জনসংখ্যা ৩ কোটি ২০ লাখ এবং এর বেশির ভাগই তরুণ যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করার জন্যই বাদশাহ সালমান নতুন যুবরাজ করেছেন তার ৩২ বছর বয়স্ক পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে। যাকে ডাকা হচ্ছে ‘এমবিএস’ নামে।

এই এমবিএসই এখন সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ গতিপথ তৈরির প্রধান সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন।

তিনি কার্যত একটা নতুন মডেল দিচ্ছেন সৌদি আরবের জন্য বেশি করে কাজ কর, জীবনের আনন্দ উপভোগ কর, কিন্তু সৌদি সিস্টেমের সমালোচনা কর না।

এভাবেই তিনি নাগরিকদের আরও বেশি রাজনৈতিক অধিকার দেয়ার যে চাপ তা মোকাবিলা করতে চাইছেন।

অনেকটা প্রতিবেশী দুবাইয়ের মতো, তিনি রাজনৈতিক স্বাধীনতা বাড়াচ্ছেন না – তার পরিবর্তে সামাজিক স্বাধীনতা বাড়িয়ে দিচ্ছেন। সিনেমা হল খোলা তারই অংশ।

কিন্তু একটা গুরুতর প্রশ্ন হলো, সৌদিরা কি আসলেই আরও উদার সমাজ চায়?

প্রকৃতপক্ষে সৌদি সমাজ বহুবিচিত্র, এখানে নানা ধরনের লোক আছে। এখানে এক মিলিয়নের বেশি লোক বিদেশে লেখাপড়া করেছে, আর বাকিরা এখনো পুরো ঐতিহ্যগত জীবনে ডুবে আছে।

মোহাম্মদ বিন সালমান যেভাবে মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিচ্ছেন, সিনেমা হল খুলে দিচ্ছেন, এতে সৌদি সমাজে একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছে যে পরিবর্তনে গতি কতটা দ্রুত হওয়া উচিত, এবং কী ধরনের সংস্কৃতি সেখানে গড়ে ওঠা উচিত?

এই বিতর্কটা সবচেয়ে বেশি জোরালো নারীদের অধিকারের ক্ষেত্রে।

সৌদিদেরদ দু’তৃতীয়াংশই অনলাইনে প্রতি সপ্তাহে একটি করে সিনেমা দেখে। ১০ জনের ৯ জনের হাতেই স্মার্টফোন আছে। অনেকে সস্তা প্লেনের টিকিট নিয়ে বাহরাইন বা দুবাইয়ে সিনেমা দেখতে যায়।

সৌদি বিমান সংস্থার ফ্লাইটে সিনেমা দেখানো হয়, তবে সেখানে মেয়েদের খোলা বাহু বা মদের বোতলের মতো ‘অনুচিত’ জিনিসের দৃশ্য ঝাপসা করে দেয়া হয়।

আসলে সৌদি আরবে সিনেমার ওপর নিষেধাজ্ঞা জনমতের কারণে আরোপ করা হয়নি। করা হয়েছিল ইসলামপন্থীদের সন্তুষ্ট করতে।

দেশটির গ্রান্ড মুফতি বলেছিলেন, সিনেমায় নির্লজ্জ এবং অনৈতিক জিনিসে দেখা যেতে পারে, এবং তা নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা উৎসাহিত করতে পারে।

একসময় এসব কথা বড় আলোচনা তৈরি করত। এখন আর তা করে না।

এমবিএসের সময় সৌদি সরকার মনে করছে যে এই ধর্মীয় নেতাদের হাতে বেশি ক্ষমতা থাকা রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক, কারণ তা উগ্রপন্থা উসকে দিতে পারে বা রাজনৈতিক ক্ষমতা ভাগাভাগির দাবিও তুলতে পারে।

এখন বরং সৌদি সরকার ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামীতে এই ধর্মীয় নেতাদের হাতে ক্ষমতা ও প্রভাব থাকবে আগের চাইতে কম।