অজান্তেই শরীরে বাসা বাঁধতে পারে এই মরণ অসুখ! প্রতিরোধ করবেন কিভাবে?

কিডনির অসুখের মতো ভয়ানক অসুখ মানুষকে একেবারে কাহিল করে দেয়। অথচ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগীরা টেরই পান না। একেবারে শেষে এসে যখন রোগ ধরা পড়ে তখন, ডায়ালিসিস করা বা কিডনি প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, ভারতের ১৭.২ শতাংশ মানুষ ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’ বা ‘সিকেডি’তে ভুগছেন। স্টেজ ৩ বা তার থেকেও খারাপ অবস্থা ৬ শতাংশের। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে ভারতে সিকেডি-র পরিসংখ্যান তৈরি করতে গিয়ে সিক (স্ক্রিনিং অ্যান্ড আর্লি ইভলিউশন অফ কিডনি ডিজিজ)-এর সমীক্ষায় এমন তথ্যই মিলেছে।

জানা যাচ্ছে, এই ‘ক্রনিক কিডনি ডিজিজ’-এর প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরেও মানুষের সাধারণ জীবন যাপনে তেমন কোনও অসুবিধা হয় না। ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই অসুখটি ধরা পড়ে একেবারে অন্তিম স্টেজে এসে! এমনটাই জানাচ্ছেন দিল্লির ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস-এর নেফ্রেলজি বিভাগের মুখ্য আধিকারিক চিকিৎসক আরপি মাথুর।

কেন হয় এই অসুখ? ফর্টিস এস্কর্টস অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট-এর চেয়ারম্যান চিকিৎসক বিজয় খের জানাচ্ছেন, ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের কারণেই এই অসুখ হয়। অনিয়ন্ত্রিত হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে সেটা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। অথচ চিনি ও নুনের মাত্রা কমিয়ে, নিয়মিত ব্যায়াম করে, ধূমপান না করে ও ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই এই ধনের অসুখকে মোকাবিলা করা যায় বলে ই জানাচ্ছেন তিনি।

আসলে আধুনিক যুগের দ্রুত গতির জীবন, অযথা ইঁদুর দৌড়— এসবের কারণে এই রোগগুলি ক্রমশ বাড়ছে বলেই মত চিকিৎসকদের। অনেক ক্ষেত্রেই ছোটখাটো অসুখকে পাত্তা না দেওয়ার ফলে কিডনির অসুখের মতো বড় অসুখকে কাবু করে ফেলে।

চিকিৎসক বিজয় খের জানাচ্ছেন, জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান বর্জন করতে পারা ও খুব কম বয়স থেকে শরীরে নুন ও চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ জন্য ছাত্রাবস্থা থেকেই স্কুল ও অভিভাবকদের বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি জানান।

কিডনি ভাল রাখতে হলে কী করতে হবে? ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দিনে অন্তত ২ লিটার জলপান করা, রেড মিট ও জাঙ্ক ফুড না খাওয়া ও খাবারে বেশি নুন না খাওয়া। তা হলেই কিডনি ভাল থাকবে। পাশাপাশি বছরে একবার করে ডায়াবেটিস, হাইপার টেনশন ও কিডনি ফাংশান টেস্ট করানো। যদি পরিবারে কারও কিডনির অসুখের ইতিহাস থাকে ও বয়স ৬০-এর বেশি হয় সেক্ষেত্রে বছরে দু’বার পরীক্ষা করাতে হবে।