সবার আদরের ছিলেন নাজিয়া

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী (৪৫) ছিলেন ভাইবোনদের মধ্যে সবার ছোট। সবার আদরের ছিলেন নাজিয়া। আদর করে তাঁকে ডাকা হতো জিনু নামে। পড়ালেখাতেও ভালো ছিলেন তিনি। নয় ভাইবোনের মধ্যে সারাক্ষণ প্রাণবন্ত থাকা ছিল তাঁর অন্যতম চারিত্রিক গুণ। গতকাল নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে থমকে গেছে পুরো পরিবার।

 

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাজিয়ার বড় বোন হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের শিক্ষক মিলি চৌধুরী বলেন, নাজিয়া ছিল চৌকস। সব বিষয়ে পারদর্শী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল বিষয়ে পাশ করেন। পড়াশোনার ফলাফলও বেশ ভালো করেছিলেন। তিনি ২০তম বিসিএসে অর্থ (ইকোনমি) ক্যাডারে সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। তাঁর স্বামী মনিরুল হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক। নাজিয়া সবার ছোট। আমরা সবাই তাঁকে খুব আদর করতাম। বোনের এই কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন মিলি।

মিলি চৌধুরী অভিযোগ করেন, ‘নেপাল কর্তৃপক্ষ খুব ধীর গতিতে কাজ করছে। আমার ভাই রিপন সেখানে গেছেন।’
মিলি চৌধুরী বলেন, তাঁর ভাই জানিয়েছেন লাশ শনাক্ত করতে অনেক সময় লাগবে। সবার ময়নাতদন্ত করতে হবে। নমুনা নিয়ে লাশ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য শরীরের নানা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও পোশাকের বর্ণনা চাওয়া হচ্ছে। কখন বোনের লাশ দেশে আসবে সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি।
নাজিয়ার চাচাতো ভাই প্রাণী বিশেষজ্ঞ খসরু চৌধুরী বলেন, ‘বাড়িভর্তি নিজের ভাইবোনের পাশাপাশি অন্য ভাইবোনেরা বাড়িতে জমজমাট আড্ডায় মেতে থাকত। এর মধ্যেই জায়গা করে নিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যেত।’

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল সোমবার বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জন নিহত হন। বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ৭১ জন আরোহীর মধ্যে ৬৭ জন যাত্রী ছিলেন।