Tuesday , July 16 2019

নিরবেই বাংলাদেশ থেকে চলে গেলেন রোডস

স্টিভ রোডস গত বছর জুনে ঠিক এমনই এক মেঘলা দুপুরে এসেছিলেন বিসিবি কার্যালয়ে। সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলে গিয়েছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কক্ষে। বাংলাদেশে তাঁর প্রথম দিনটার সঙ্গে শেষ দিনটাও মিলে গেল অদ্ভুতভাবে।

গতকালও সেই মেঘলা দুপুর। বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কক্ষ। সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া। পার্থক্যটা হচ্ছে, যেদিন কোচ হয়ে বাংলাদেশে প্রথম এলেন, সেদিন মুখে একটা হাসি ছিল। গতকাল সেটি উধাও!

বিদায়বেলায় তাঁর বিষন্ন মুখটা দেখে মনে হচ্ছিল, এভাবে বিদায় তিনি নিতে চাননি। এক বছরের বাংলাদেশ-অধ্যায় যিনি কখনোই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেননি সেই রোডস আজ বিদায়ক্ষণে একটা কথাও বললেন না।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ-পর্বটা তাঁর শেষ হলো নীরবেই। বিসিবি বলছে, ‘এটা পারস্পরিক সমঝোতার বিচ্ছেদ।’

রোডস কেন কথা বললেন না, এ নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বললেন, ‘এটি আসলে যাঁর যাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার।

খুবই স্বাভাবিক যে একটি সম্পর্কের যখন ইতি ঘটে, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা হয়, তিনি হয়তো এসব ব্যক্তিগতভাবে এড়াতে চাইছেন।’ রোডস কিছু না জানালেও আজ বাংলাদেশ দলের ইংলিশ

কোচের বিসিবি কার্যালয়ে আসা প্রসঙ্গে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীর ব্যাখ্যা, ‘এটা আসলে একটা আনুষ্ঠানিকতা ছিল। কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় ছিল, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া। সেগুলো আমরা শেষ করলাম। তিনি সম্ভবত আজ বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন।’

গতকালও লন্ডনে ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা সিরিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন রোডস।

ঠিক তাঁর পরের দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ কোচ। বিসিবি সভাপতির কথার সঙ্গে বাস্তবের এ অমিল নিয়ে নিজামউদ্দিন বললেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি হয়েছে।

কিছু শর্ত থাকে। বোর্ড সভাপতি সেটাই বলেছেন যে তিনি চূড়ান্তভাবে কবে যাবেন বা কী করবেন সেটি তাঁরই (কোচের) সিদ্ধান্ত। সেটি আমাদের পরশু জানিয়েছেন (কোচ)। আমরা সভাপতিকে রাতে জানিয়েছি বিষয়টি যে তিনি আজ (গতকাল) চলে যেতে চাইছেন।’

প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের কোচিং ধরণের সঙ্গে না মিল না হওয়ায় বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তার পথ আলাদা হওয়ার কথা জানিয়েছেন বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন।

তবে তাকে তারা একেবারে বাদ দেননি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে এই ইংলিশ কোচের সিদ্ধান্তেরই নাকি অপেক্ষা করছিল বোর্ড।

সেমিফাইনালের আশা নিয়ে বিশ্বকাপে গিয়ে বাংলাদেশের শেষটা হয়েছে হতাশায়। দশ দলের মধ্যে আট নম্বরে থেকে ফিরতে হয়েছে দেশে।

এরপরই চুক্তি কমিয়ে রোডসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানান বিসিবির দায়িত্বশীলরা। কীসের ঘাটতি থাকায় কোচকে আর রাখতে চাইছে না বিসিবি?

লন্ডনের চিজউইকে ইন্টারপার্লামেন্টারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলা দেখতে এসে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান দিলেন কোচকে না রাখার ব্যাখ্যা, ‘মূলত প্রতি বিশ্বকাপের পর প্রত্যেক দলেরই একটা মূল্যায়ন হয় কোচিং স্টাফ, খেলোয়াড়দের নিয়ে।

এটাই এটার একটা প্রক্রিয়া। একেকজনের একেক রকম ধরন থাকে। ওর ধরন খারাপ সেটা বলছি না। কিন্তু অনেক সময় হয় কি, আমাদের সঙ্গে একই রকম চিন্তাধারা না থাকলে অনেক সমস্যা হয়। সেজন্য আমরা মনে করেছি…(বিকল্প ভাবার)।’

তবে কোচের সঙ্গে পারস্পারিক বোঝাপড়ায় সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেললেও বিসিবি প্রধান জানান, এখনো নাকি চাইলে কয়েকমাস থেকে যেতে পারেন রোডস, ‘কিন্তু তাকে আমরা বাদ দেইনি।

তার একটা অপশন ছিল যে ইচ্ছা করলে থাকতেও পারে আরও কয়েকমাস। তার সঙ্গে পারষ্পারিকভাবে আলাপ করে দেখেছি, বড় একটা সম্ভাবনা আছে ও চলে যাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা তার কাছ থেকে কিছু (উত্তর) পাইনি। কাজেই অপশন শেষ হয়নি।’