Saturday , August 24 2019

ইংলিশদের শিরোপা জয়ে বিশ্ব মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া

শেষ হলো ৪৬ দিনের মহাযজ্ঞ। উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ ছড়িয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্ব সেরার মুকুট পড়লো ইংলিশরা। আইসিসি ট্রফি ফিরে এলো তার আঁতুড় ঘরে। ফাইনালের ওই শেষ ১২ বলের রোমাঞ্চ ছড়িয়ে গেছে পুরো বিশ্বে।

যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে প্রতিটি দেশের সংবাদ-মাধ্যমে। নান দেশের পত্র-পত্রিকার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটারদের মন্তব্য নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।

অবিস্মরণীয় এক রাত পার করলো ক্রিড়াপ্রেমীরা। বলে বলে’র উত্তেজনা ছড়িয়েছে গ্যালারি থেকে বাইরে। ক্রিকেট উন্মাদনায় মাতলেন একেবারে ক্রিকেট না বোঝা ব্যক্তিটাও। এটাই যে ক্রিকেটের সৌন্দর্য।

ফাইনালের পরদিনও তাই কাটছে না সেই মোহ। দেশ-বিদেশের নানা পত্রিকায় চলছে লর্ডসের ম্যাচ নিয়ে আলোচনা। চলছে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকেই করছে ঘটনার বর্ণনা আর ক্ষেত্র বিশেষে হচ্ছে কিছু সমালোচনা।

এমন রাত কখনো দেখেনি ক্রীড়া বিশ্ব। ক্রিকেট ফুটবল টেনিস মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলো ১৪ জুলাই রাতে। ফাইনালের সময়টাকে এভাবেই বর্ণনা করেছে বিশ্বের প্রভাব শালী সব পত্রিকা। ২৭ বছর পর ফাইনাল খেললেও, ইংল্যান্ডের স্নায়ু যুদ্ধে জয়ের কাহিনী হার মানিয়েছে অনেক জয়কেই।

শুধু কি তাই, তাদের বন্দনা থেকে বাদ যাননি ফাইনালের অবিসংবাদিত নায়ক বেন স্টোকসও। কলঙ্কময় অতীতকে পেছনে ফেলে থ্রি লায়নদের হিরো হওয়ার গল্প ছেপেছে সবাই শুরুতেই।

২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা যিনি নিজ হাতে ফেলে দিয়েছিলেন, তার হাত ধরেই প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলো ইংল্যান্ড।

তবে, সমালোচনা করতেও পিছ পা হয়নি গণমাধ্যমগুলো। ১০০ ওভারের খেলা টাই হবারর পর, যখন সুপার ওভারটাকেও টাই করে ফেললো ব্ল্যাক ক্যাপসরা, তখন এই এই অদ্ভুতুড়ে নিয়মে বিশ্বকাপ ট্রফির বোঝাপড়া হওয়াটাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। অনেকের মতেই, এ ধরণের অযৌক্তিক নিয়ম ক্রিকেট থেকে উঠিয়ে দেয়া উচিত।

টাই ছাড়াও আরো একটা উদ্ভট ঘটনা ঘটেছিলো ফাইনালে। জয়ের জন্য তখন ৩ বলে ৯ রান দরকার ইংলিশদের। কিন্তু ফিল্ডারের থ্রো ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লেগে ৪ হলে, ৬ রান পায় ব্যাটিং করা দল। ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। আইসিসির নিয়মের দোহাই দিয়ে অনেকে বিষয়টিকে স্বাভাবিক বললেও, বেশিরভাগ ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়নি বিষয়টি।

তবে, ইংলিশ মিডিয়ার কাছে আজ হিরো ক্রিকেটাররা। শুধু তাই না, তাদের প্রশংসায় ভাসছে চিরশত্রু একজন অস্ট্রেলিয়ানও। যার কোচিংয়ে এসেছে তাদের অধরা শিরোপা। ট্রেভর বেইলিস।

তবে যাই হোক, শেষ বিচারে জয়ী দলটার নাম ইংল্যান্ড। ক্রিকেটের জনকরা ৪৪ বছর পর পেলো শিরোপার স্বাদ। ইতিহাসে নাম উঠলো একজন আইরিশের, ইয়ন মর্গান। যিনি ১০ম অধিনায়ক হিসেবে যোগ দিলেন অভিজাত এক ক্লাবে। তাই তো টুইট করে তাকে স্বাগত জানিয়েছে খোদ আইসিসি।

সংবাদ মাধ্যম ছাড়াও ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। নানাভাবে ইংলিশদের এই অর্জনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বের মহাতারকারা। নিউজিল্যান্ডকে শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি আগামী ৪ বছরের জন্য নতুন চ্যাম্পিয়নদের বরণে কোন কমতি ছিলোনা তাদের।