পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের

পাবনায় পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ কমছে কৃষকদের। গত বছরের তুলনায় এবার পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রাও ৮০০ হেক্টর কম ধরা হয়েছে। এতে করে

দেশের পেঁয়াজের চাহিদায় কিছুটা বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় এবার আট হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে কন্দ বা মূলকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ৯ হাজার ৩০০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা ছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন। দুই বছর আগে পেঁয়াজের ভাল দাম পেয়েছিলেন চাষিরা। এজন্য কৃষকেরা গত বছর পেঁয়াজ চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছিলেন। গত বছর ক্ষতির মুখে পড়ায় এবার আবাদ কমছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার চাষিরা দুটি পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ করে থাকেন। এর একটি কন্দ (মূলকাটা বা মুড়ি) ও অন্যটি চারা (হালি) পদ্ধতি। মূলকাটা পদ্ধতিতে পেঁয়াজের আবাদ শুরু হয় অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আর হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। মূলকাটা পদ্ধতিতে আবাদ করা নতুন পেঁয়াজ জানুয়ারি মাসে বাজারে উঠতে শুরু করে। আর হালি পদ্ধতিতে চাষ করা পেঁয়াজ মার্চে বাজারে ওঠে।

কৃষি কর্মকর্তারা আরও জানান, প্রতিবছর পেঁয়াজের বার্ষিক উৎপাদন ২৫ লাখ মেট্রিক টন। পাবনা থেকেই উৎপাদন হয় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। যা মোট উৎপাদনের এক চতুর্থাংশ। আর পাবনার সাঁথিয়া-সুজানগর উপজেলা থেকে উৎপাদন হয় প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ টন। সে হিসেবে সারা দেশে মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের এক পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় পাবনার এ দুটি উপজেলা থেকে।

jagonews24

সাঁথিয়া ও সুজানগর উজেলার বিল গাজনা পাড়, বিল গ্যারকা পাড়, কুমিরগাড়ী, বামনডাঙ্গা, বামনদি, ইসলামপুরে দেখা যায়, চাষিরা মূলকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত। তবে গত বছরের মত তা উৎসবে রূপ নেয়নি। গত বছর যেসব জমিতে মূলকাটা বা মুড়ি পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবার অনেক জমিতে চাষিরা সরষে বা গম করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সাঁথিয়ার কুমিরগাড়ী গ্রামের চাষি রোস্তম আলী জানান, শেষবারে মতো এবার পেঁয়াজ আবাদ করেছি। ভালো দাম না পেলে আর পেঁয়াজ আবাদই করব না।

আরশেদ আলী খান নামের আরেক কৃষক বলেন, তিন বছর ধরে ক্ষতির শিকার হচ্ছি। মণপ্রতি ২০০ খরচ পড়লেও বিক্রি করতে হয় এক হাজার টাকায়। গত মৌসুমে ৫০০-৬০০ টাকা মন দরে পেঁয়াজ বেচা-কেনা হয়েছে।

মিল্লাদ হোসেন নামের আরেক চাষি জানান, এখন পেঁয়াজ চাষে অনেক খরচ। অনেক ছোট-বড় চাষি চড়া সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েও পেঁয়াজ চাষ করেন। নতুন পেঁয়াজ পুরোদমে বাজার উঠলে দাম কমে যায়।

ভৈরবপুর গ্রামের চাষি আমজাদ হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে মূলকাটা পেঁয়াজ আবাদ করতে পেঁয়াজ কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৩৫-৩৬ হাজার টাকা খরচ হয়। মৌসুমে মণপ্রতি দুই হাজার টাকা বাজার থাকলে চাষির পোষায়।

jagonews24

পাবনার বনগ্রাম হাটে দেখা যায়, প্রতি মণ পুরাতন পেঁয়াজ (বড়) বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪০০-১৫০০ টাকায়। ছোট আকারের বীজ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯০০-১০০০ টাকায়।

কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানান, পেঁয়াজ চাষে ক্ষতির শিকার হওয়ায় আবাদ কমে যাচ্ছে। স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সরকারি ঘোষণা থাকলেও সাধারণ চাষিরা সে সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেকেই চড়া সুদে মহাজনী ঋণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক ড. সাইফুল আলম জানান, এবার আবহাওয়া ভাল। কৃষির মাঠকর্মীরা চাষিদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ছে। উন্নত জাতও উদ্ভাবিত হয়েছে।