প্রতিদিন ২৭০ কোটি ডলার হারে সম্পদ বাড়ছে ধনকুবেরদের

বিশ্বে ২০২০ সালের পর তৈরি হওয়া নতুন সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশেরই দখল বিশ্বের শীর্ষ ধনী মাত্র ১ শতাংশ মানুষের হাতে। আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল গতকাল সোমবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) বার্ষিক সভার প্রথম দিনে বৈশ্বিক বৈষম্যের চিত্র উন্মোচন করা এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে অক্সফাম। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২০ সালের পর তৈরি হওয়া ৪২ লাখ কোটি ডলার মূল্যমানের

সম্পদ শীর্ষ ধনী ১ শতাংশ মানুষের হাতে রয়েছে। এটি বিশ্বের বাকি ৯৯ শতাংশ মানুষের হাতে থাকা সম্পদের পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ। গত দশকেও বিশ্বের অর্ধেকের মতো সম্পদ ১ শতাংশ ধনী ব্যক্তির হাতে পুঞ্জীভূত ছিল।

গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সম্পদের ব্যাপক বৃদ্ধি এবং চরম দরিদ্র মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধি একই সঙ্গে ঘটার প্রেক্ষাপটে এবারের দাভোস সম্মেলনটি হচ্ছে। এই বিশেষ মুহূর্তে ‘সারভাইভাল অব দ্য রিচেস্ট’ নামের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো।

এ বিষয়ে অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচার বলেন, যখন সাধারণ মানুষ খাদ্যের মতো নিত্যপণ্য ক্রয় করতে প্রতিদিন হিমশিম খাচ্ছে,

তখন বিশ্বের অতি ধনীরা তাদের উদ্দাম স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছুটছে। মাত্র দুই বছরে এই দশকটি বড় ধনকুবেরদের জন্য সবচেয়ে সফলতম সময় হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন ২৭০ কোটি ডলার হারে সম্পদ বাড়ছে ধনকুবেরদের। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৭০ কোটি কর্মজীবী মানুষের মজুরি নিজ নিজ অঞ্চলের মুদ্রাস্ফীতি খেয়ে নিচ্ছে। বিশ্বের ছোট ও বড় ধনকুবেরদের ওপর ৫ শতাংশ হারে করারোপ করা হলে

এক লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলারের সংস্থান হবে। এই অর্থ বিশ্বের ২০০ কোটি মানুষের দারিদ্র্য নির্মূল করার জন্য যথেষ্ট। যুক্তরাজ্যে ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক গ্যাব্রিয়েলা বুচারের ভাষায়, এ ব্যাপারটি খুব ‘বেদনাদায়ক’।

দাভোসের অর্থনৈতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত হন। বিশ্বের নানা অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে এতে আলোচনা হয়।

আগামী শুক্রবার পর্যন্ত নির্ধারিত এ সম্মেলনে গতকাল পর্যন্ত ৫৩টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান ছাড়াও বিভিন্ন কম্পানির প্রায় ৬০০ জন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত হয়েছেন।

ভারতেও শীর্ষ ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত সম্পদ : অক্সফামের প্রতিবেদন মতে, ভারতের সবচেয়ে ধনী মাত্র ১ শতাংশ মানুষ এখন দেশের মোট ৪০ শতাংশের বেশি সম্পদের মালিক। দেশটিতে জনসংখ্যার নিচের সারির অর্ধেক সবাই মিলে ৩ শতাংশ সম্পদের অধিকারী।

অক্সফাম বলছে, ভারতের শীর্ষ ১০ ধনীর ওপর ৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স আরোপ করা হলে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য পুরো অর্থ পাওয়া যাবে।

আরো বলা হয়েছে, শুধু গৌতম আদানির মতো একজন ধনকুবেরের ২০১৭-২০২১ সালের অনাদায়ি আয়ের ওপর এককালীন কর আরোপ করা হলে এক লাখ ৭৯ হাজার কোটি রুপি উঠবে। এই অর্থ ভারতের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক বছরের জন্য ৫০ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

প্রতিবেদনটি আরো বলেছে, ভারতের শত কোটিপতির সমুদয় সম্পদের ওপর এককালীন ২ শতাংশ করারোপ করা হলে আগামী তিন বছরের জন্য দেশে অপুষ্টির শিকারদের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ৪০ হাজার ৪২৩ কোটি রুপির সংস্থান হবে। সূত্র : আলজাজিরা, পিটিআই, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল।