বিএসসি পাস করে চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকাজে সফল শাকিল

অপার সম্ভাবনার এ দেশ। এখানে জন্ম নিয়েছেন অনেক জ্ঞানী-গুণী।তারা দেশের সঙ্গে বিশ্বকেও করে গেছেন সমৃদ্ধ। এখনও এ মাটির সন্তানেরা পৃথিবীর দেশে দেশে অনেক দায়িত্বপূর্ণ কাজ, যুগান্তকারী গবেষণায় ব্যস্ত।

কিন্তু সেই দেশের তরুণ প্রজন্মের খবর কী? প্রশ্ন থেকেই যায়।

একজন তরুণ কৃষিবিদ শাকিল আহম্মেদ। কৃষি ও কৃষকদের আধুনিকীকরণ করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তাকে অনুসরণ ও তার পরামর্শ নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা আধুনিক হচ্ছেন। তার এমন পরামর্শ ও উৎসাহে অধিক লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। কৃষিকাজ করে শাকিলও সফলতার মুখ দেখেছেন।

শাকিল আহম্মেদ টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গোমজানি গ্রামের মো. আব্দুল করিমের ছেলে। তিনি ২০২০ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইন এগ্রিকালচার বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে শুরু করেন কৃষি জমিতে সবজি ও ফল চাষ। প্রথমে ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াস চাষাবাদ শুরু করেন। এরপর তার প্রকল্পকে ক্রমেই বৃদ্ধি করছেন।

বর্তমানে স্কোয়াস ৪২ শতাংশ, ক্যাপসিকাম ৪০ শতাংশ, শসা ৫০ শতাংশ, সমন্বিত মিশ্র ফল ও সবজি চাষ ১২৫ শতাংশ ও ১০০ শতাংশে মাছ চাষসহ মোট ৫০০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করেছেন। সমন্বিত সবজি চাষের একই জমিতে রয়েছে পেঁপে, টমেটো, শসা, রেড ক্যাবেজ, ব্রোকলি, রক মেলন তরমুজ, বাঁধাকপি, লাউ ও লাল শাক।

সবমিলিয়ে ৫০০ শতাংশ জমিতে বিনিয়োগ করেছেন ৬ লাখ টাকা। এ বছর ১০ লাখ টাকার সবজি ও ফল বিক্রির টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন তিনি।

বর্তমানে তার উৎপাদিত সবজি ও ফল স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়েও রাজধানীতেও যাচ্ছে। প্রায় শতাধিক কৃষক শাকিলের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে কৃষিকাজে সফলতা পেয়েছেন।

শাকিল আহম্মেদ বলেন, ‘করোনার শুরুতে পরিবার থেকে অল্প পুঁজি নিয়ে প্রথমে ৪০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ করি। আধুনিক চাষাবাদে প্রথম বছরেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

এবার ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। এই প্রকল্প থেকে ১০ লাখ টাকার সবজি ও ফল বিক্রির টার্গেট রয়েছে। ক্রমেই আমার প্রকল্পে চাষাবাদ বাড়ানো হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ফার্মনেট এশিয়া নামে একটি অনলাইনভিত্তিক কোম্পানি চালু করেছি। যার কাজ কৃষক-ভোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত রাখা।

এখানেও বেশ সাড়া পেয়েছি। একই জমিতে ৮-১০ প্রকারের ফসল যৌথভাবে চাষ করে কীভাবে পুরো জমিকে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়টিও কৃষকদের শিখিয়েছি। কৃষকদের আরও আধুনিকরণ করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রণোদনার মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি সহজলভ্য করার দাবি জানান তিনি।